ভারতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়
Class 11 geography
Dipendu Mondal
সেমিস্টার টু এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং তার উত্তর
1. . পার্বত্য এলাকা ধস প্রবন হবার প্রধান প্রধান কারণ গুলি কি কি
পার্বত্য এলাকা ধসপ্রবণ হওয়ার প্রধান কারণগুলি হল
1. তীব্র ঢাল (Steep Slope) – পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমির ঢাল খুব খাড়া হওয়ায় মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে মাটি ও শিলাস্তর সহজে নিচের দিকে সরে যায়।
2. অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত (Heavy Rainfall) – দীর্ঘ সময় ধরে বা হঠাৎ অতিবৃষ্টির ফলে মাটি জলশোষণ করে ভারী হয়ে যায় এবং বন্ধন শক্তি কমে গিয়ে ধস নামে।
3. ভূমিকম্প ও কম্পন (Earthquake & Vibrations) – ভূমিকম্প বা বিস্ফোরণের মতো কম্পনের ফলে পাহাড়ের শিলাস্তর আলগা হয়ে ধসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
4. মানবীয় কার্যকলাপ (Human Activities) – বননিধন, রাস্তা কাটা, খননকার্য ও অপরিকল্পিত নির্মাণ পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে ধসপ্রবণতা বাড়ায়।
2.অগ্নুৎপাত এর প্রধান প্রধান কারণ গুলি কি কি ?
অগ্নুৎপাতের প্রধান প্রধান কারণগুলি—
1. ভূ-অভ্যন্তরের উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ – পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ফলে ম্যাগমা গলিত অবস্থায় থাকে এবং উপরিভাগে ওঠার চেষ্টা করে।
2. টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালন – প্লেটগুলির সংঘর্ষ, বিচ্যুতি বা স্লিপের ফলে ভূত্বকে ফাটল সৃষ্টি হয়, যার মাধ্যমে ম্যাগমা বেরিয়ে আসে।
3. ভূত্বকের দুর্বল অংশ ও ফাটল (Fault & Crack) – ভূত্বকের দুর্বল অঞ্চল দিয়ে ম্যাগমা সহজে উপরের দিকে উঠে অগ্নুৎপাত ঘটায়।
4. গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি – ম্যাগমার মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসের চাপ বেড়ে গেলে বিস্ফোরণধর্মী অগ্নুৎপাত ঘটে।
5. হটস্পট কার্যকলাপ (Hot Spot Activity) – ভূ-অভ্যন্তরের স্থির উত্তপ্ত অঞ্চল (হটস্পট) থেকে ম্যাগমা উপরে উঠে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি ও অগ্নুৎপাত ঘটায় (যেমন—হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ)।
3. দাবানল সৃষ্টির প্রধান প্রধান কারণ গুলি কি কি আলোচনা কর?
দাবানল সৃষ্টির প্রধান প্রধান কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হলো—
1. প্রাকৃতিক কারণ –
দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা, তীব্র গ্রীষ্মের তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়ার ফলে বনভূমির ঘাস, পাতা ও কাঠ অত্যন্ত দাহ্য হয়ে ওঠে। বজ্রপাতের ফলে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই দাবানলের সূত্রপাত ঘটে।
2. মানবসৃষ্ট কারণ –
মানুষের অসতর্কতা যেমন—জ্বলন্ত বিড়ি–সিগারেট ফেলে দেওয়া, বনভ্রমণের সময় আগুন জ্বালিয়ে নিভিয়ে না দেওয়া, শিকার বা মধু সংগ্রহের সময় আগুন ব্যবহার ইত্যাদির ফলে দাবানল সৃষ্টি হয়।
3. বন উজাড় ও জ্বালানি সঞ্চয় –
বন উজাড়ের ফলে শুকনো পাতা, ডালপালা ও কাঠ জমে থাকে, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রচুর দাহ্য পদার্থ (Fuel) সরবরাহ করে।
4. কৃষিকাজ ও ঝুম চাষ –
জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন ব্যবহার (Slash and Burn / ঝুম চাষ) অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বনাঞ্চলে দাবানলের রূপ নেয়।
