Breaking









Jan 23, 2026

ভারতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয় - Class 11 geography - Dipendu Mondal

 



ভারতের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপর্যয়

 Class 11 geography

Dipendu Mondal 

 সেমিস্টার টু এর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন এবং তার উত্তর 



1.      . পার্বত্য এলাকা ধস প্রবন হবার প্রধান প্রধান কারণ গুলি কি কি

 

পার্বত্য এলাকা ধসপ্রবণ হওয়ার প্রধান কারণগুলি  হল


1.     তীব্র ঢাল (Steep Slope) – পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমির ঢাল খুব খাড়া হওয়ায় মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে মাটি ও শিলাস্তর সহজে নিচের দিকে সরে যায়।


2.     অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত (Heavy Rainfall) – দীর্ঘ সময় ধরে বা হঠাৎ অতিবৃষ্টির ফলে মাটি জলশোষণ করে ভারী হয়ে যায় এবং বন্ধন শক্তি কমে গিয়ে ধস নামে।


3.     ভূমিকম্প ও কম্পন (Earthquake & Vibrations) – ভূমিকম্প বা বিস্ফোরণের মতো কম্পনের ফলে পাহাড়ের শিলাস্তর আলগা হয়ে ধসের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।


4.     মানবীয় কার্যকলাপ (Human Activities) – বননিধন, রাস্তা কাটা, খননকার্য ও অপরিকল্পিত নির্মাণ পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করে ধসপ্রবণতা বাড়ায়।

 


2.অগ্নুৎপাত এর প্রধান প্রধান কারণ গুলি কি কি ?

 


অগ্নুৎপাতের প্রধান প্রধান কারণগুলি—

 

1.      ভূ-অভ্যন্তরের উচ্চ তাপমাত্রা ও চাপ – পৃথিবীর অভ্যন্তরে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের ফলে ম্যাগমা গলিত অবস্থায় থাকে এবং উপরিভাগে ওঠার চেষ্টা করে।

 

2.      টেকটোনিক প্লেটের সঞ্চালন – প্লেটগুলির সংঘর্ষ, বিচ্যুতি বা স্লিপের ফলে ভূত্বকে ফাটল সৃষ্টি হয়, যার মাধ্যমে ম্যাগমা বেরিয়ে আসে।

 

3.      ভূত্বকের দুর্বল অংশ ও ফাটল (Fault & Crack) – ভূত্বকের দুর্বল অঞ্চল দিয়ে ম্যাগমা সহজে উপরের দিকে উঠে অগ্নুৎপাত ঘটায়।

 

4.      গ্যাসের চাপ বৃদ্ধি – ম্যাগমার মধ্যে থাকা জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড প্রভৃতি গ্যাসের চাপ বেড়ে গেলে বিস্ফোরণধর্মী অগ্নুৎপাত ঘটে।

 

5.      হটস্পট কার্যকলাপ (Hot Spot Activity) – ভূ-অভ্যন্তরের স্থির উত্তপ্ত অঞ্চল (হটস্পট) থেকে ম্যাগমা উপরে উঠে আগ্নেয়গিরির সৃষ্টি ও অগ্নুৎপাত ঘটায় (যেমন—হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ)।

 

 

 

3.    দাবানল সৃষ্টির প্রধান প্রধান কারণ গুলি কি কি আলোচনা কর?


 দাবানল সৃষ্টির প্রধান প্রধান কারণগুলি নিচে আলোচনা করা হলো—

 

1.      প্রাকৃতিক কারণ –

দীর্ঘদিন বৃষ্টিহীন অবস্থা, তীব্র গ্রীষ্মের তাপমাত্রা ও শুষ্ক আবহাওয়ার ফলে বনভূমির ঘাস, পাতা ও কাঠ অত্যন্ত দাহ্য হয়ে ওঠে। বজ্রপাতের ফলে অনেক সময় স্বাভাবিকভাবেই দাবানলের সূত্রপাত ঘটে।

 

2.      মানবসৃষ্ট কারণ –

মানুষের অসতর্কতা যেমন—জ্বলন্ত বিড়ি–সিগারেট ফেলে দেওয়া, বনভ্রমণের সময় আগুন জ্বালিয়ে নিভিয়ে না দেওয়া, শিকার বা মধু সংগ্রহের সময় আগুন ব্যবহার ইত্যাদির ফলে দাবানল সৃষ্টি হয়।

 

3.      বন উজাড় ও জ্বালানি সঞ্চয় –

বন উজাড়ের ফলে শুকনো পাতা, ডালপালা ও কাঠ জমে থাকে, যা আগুন ছড়িয়ে পড়ার জন্য প্রচুর দাহ্য পদার্থ (Fuel) সরবরাহ করে।

 

4.      কৃষিকাজ ও ঝুম চাষ –

জমি পরিষ্কারের জন্য আগুন ব্যবহার (Slash and Burn / ঝুম চাষ) অনেক সময় নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বনাঞ্চলে দাবানলের রূপ নেয়।